ক্যাশলেস লেনদেনে চ্যালেঞ্জ ও করণীয় নিয়ে বৈঠক করলো ফিনটেক সোসাইটি
গত কয়েক বছর ধরে কাগজ বিহীন মুদ্রা হিসেবে বিএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি, বিনিময়, বাংলা কিউআর এর মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেই সূত্র ধরে ২০২৫ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ এবং ২০৩১ সালের মধ্যে শতভাগ কাগজ মুদ্রা চালুর অভিপ্রায় জানানো হয়েছে প্রস্তাবিত বাজেটে। আইটিইএস সুবিধা পেতে নগদবিহীন লেনদেন এবং ডিজিটাল ব্যাংক বাড়ানোর মতো প্রস্তাবনা রাখা হয়েছে এতে। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে খাতটি এখনো প্রস্তুত নয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সুনির্দিষ্ট ও লক্ষ্যভেদী কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ তাদের।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘ক্যাশলেস লেনদেন, চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এই পরামর্শ দিয়েছেন বক্তারা। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফিটনেক সোসাইটির সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর। প্রবন্ধে ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তিনি দেখিয়েছেন, মার্কেট মার্চেন্টের বিশ্লেষণকৃত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ৫৪টি দেশ সম্পূর্ণ ক্যাশলেস হওয়ার পক্ষে আছে, আরও ৩২টি দেশ এখনো নগদ অর্থের মাধ্যমে বিনিময় করতে চায়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, রাশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সবচেয়ে বেশি ক্যাশলেস লেনদেন করা দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে। আগামী বিশ্ব নগদ টাকা ছেড়ে ক্যাশলেস সোসাইটি তৈরির দিকে ধাবিত হচ্ছে। ক্যাশলেস অর্থনীতির আলোচনা একাডেমিক গণ্ডি পেরিয়ে প্র্যাকটিশনারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু এখনো বেশির ভাগ গ্রাহক ক্যাশলেস লেনদেনে প্রস্তুত নন। ইন্টারনেট সুবিধা অপ্রতুলতা, গ্রাহকদের পর্যাপ্ত ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট না থাকা, তহবিল সহজলভ্যতার এবং সর্বোপরি ক্যাশলেস লেনদেনে তাৎক্ষণিক টাকা ওঠানোর সুযোগ না থাকাকে এই চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি। তাছাড়া খোদ বাংলাদেশ ব্যাংকেই শুক্র ও শনিবার ইলেকট্রিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) বন্ধ থাকাকেও বড় কারণ হিসেবে মনে করেন তিনি।

পাশাপাশি ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণে জাতীয় রাজস্ববোর্ড এবং টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি’র মধ্যে জোর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বেসিস এর এই সাবেক সভাপতি। তিনি উপস্থাপনায় দেখিয়েছেন, দেশে পস মেশিনের ব্যবহার ও বাংলা কিউআর কোডের ব্যবহার এখনো অপ্রতুল। এমএফএস এবং কার্ডে লেনদেনের খরচ এখনো বেশি।
প্রথম আলোর ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের প্রধান সমন্বয়ক মুনির হাসানের সঞ্চালনায় শনিবার অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তব্য দেন বিল্ডকন কনসালট্যান্সির ম্যানেজিং পার্টনার মাহতাব আহমেদ, বিকাশের চিফ এক্সটারনাল ও করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার (সিইসিএও) শেখ মো. মনিরুল ইসলাম, মাস্টারকার্ডের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, টালিখাতার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহাদাত খান, প্রিয় পে’র সিইও জাকারিয়া স্বপন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মইনুল হোসেন, নগদের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আমিনুল হক, ব্র্যাক ব্যাংকের ডিএমডি এম সাব্বির হোসেন, প্রাইম ব্যাংকের ডিএমডি নাজিম চৌধুরী, যমুনা ব্যাংকের পরিচালক রেদওয়ান আনসারী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হেড অব ডিজিটাল ব্যাংকিং খালিদ হোসেন, ওয়েজলির হেড অব অপারেশন নাভিদ সারওয়ার প্রমুখ।
দৈনিক প্রথম আলো ও ফিনটেক সোসাইটির যৌথউদ্যোগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সহযোগী ছিলো ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ওয়েজলি ও টালিখাতা।







